নিজস্ব প্রতিবেদক
গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার পৌর শহরের ছোটশিমুলতলা পানহাটিতে পানহাটির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিএনপি-জামায়তের দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর বেশ কিছুদিন থেকেই উপজেলার ছোটশিমুলতলা পানহাটিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে দ্ব›দ্ব চলে আসছে। এর আগে দু’পক্ষের মধ্যে এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালেও উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় পথচারী ও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ঘটনার পরপরই সোসাল মিডিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট শিমুলতলা এলাকার পানহাটি সংলগ্ন পলাশবাড়ি-ঘোরাঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের দুপাশে দুই পক্ষের লোকজন অবস্থান নিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করে। এসময় হাতে দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া, বাঁশের লাঠি নিয়ে নারায়ে তাকবির-আল্লাহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করতেও শোনা যায়। একই সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফারণ ঘটানো হলে পথচারী ও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষকে দিকবেদিক ছুটতেও দেখা যায়। অন্যদিকে পানহাটিতে থাকা দুটি গাছ এবং হাটের কয়েকটি পানের দোকান (ছাউনি) ভাঙার ঘটনাও ঘটে।
পলাশবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ সারোয়ারে আলম খান বলেন, সকালে পানহাটিতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত নয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই পানহাটির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ২০মে বিএনপি ও জামায়াতের দু পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিন প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পৌর শাখার অফিস সম্পাদক সামিউল বুকে চোট পেয়ে আহত হন এবং ৩০ মে ভোররাতে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পরে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর পক্ষ থেকে সামিউলের মৃত্যুকে বিএনপির ওই সংঘর্ষকে দায়ী করা হলেও পরে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে তার আগে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের দুই পক্ষ থেকেই পলাশবাড়ি থানায় মামলা করা হয়।