নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার ২৫ মে-২০২৬ ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলার জোকারচর ও সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়,উত্তরবঙ্গগামী একটি রডবোঝাই ট্রাক অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় মহাসড়কে থাকা কয়েকটি যানবাহনও ট্রাকটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজনের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ,ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এলেঙ্গা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান,ভোরের দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই ট্রাকটি উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হন। অন্যদিকে,বাংলাদেশ পুলিশ এর যমুনা সেতু পূর্ব থানার ( ভারপ্রাপ্ত ) কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন জানান,পুলিশ,ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি,ফিটনেসবিহীন যানবাহন,ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী পরিবহন এবং চালকদের অসচেতনতার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে,অতিরিক্ত গতি কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।