নিজস্ব প্রতিবেদক
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত ব্যক্তির নাম ও ছবি ব্যবহার করে পরিচালিত কথিত ফেক আইডি, বিভ্রান্তিকর ভিডিও বার্তা এবং অপপ্রচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’।
স্থানীয় সূত্র, অভিযোগকারী ও এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিতর্ক ও সমালোচনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে আসছে। সম্প্রতি মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত কথিত ফেক আইডি থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় বিষয় নিয়ে প্রচারিত ভিডিও ও বক্তব্য এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত এসব বেনামী অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য, বিতর্কিত মন্তব্য এবং অপপ্রচারমূলক কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে অতীতে পারিবারিক কবরস্থানের ওপর ভবন নির্মাণের অভিযোগ নিয়েও জামাল উদ্দিনকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার পর বিষয়টি প্রকাশে ভূমিকা রাখা সংবাদকর্মী ও একটি মানবিক সংগঠনকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানো হয়।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিতর্কিত স্থাপনাটিকে ঘিরে পরবর্তীতে একাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়, যা এখনও আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিকৃত ছবি তৈরি, বেনামী অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে সামাজিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনাকারী কিছু ব্যক্তি ও সংগঠনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ফেক আইডি, গুজব এবং অপতথ্যনির্ভর প্রচারণার কারণে এলাকায় বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বেড়েছে। অনেকেই বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানী সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। অভিযোগগুলোর পেছনে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে ফেক আইডি পরিচালনা, অপতথ্য ছড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে তা গুরুতর অনৈতিক ও আইনগত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিঃদ্রঃ প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যসমূহ অভিযোগকারী, স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপিত।