নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ সেই অসুস্থ বাবা একটুখানি স্ট্রোক করে শরীরের ভারসাম্য হারাতেই, মেয়ে আর স্ত্রী মিলে তাঁকে কুকুরের মতো লা/ঠি দিয়ে পি/টি/য়ে বাড়ি থেকে বের করে দিল! এই যদি হয় শিক্ষার ফল, তবে এই সমাজ আর বেঁচে আছে কোন ভরসায়?”—কুমিল্লার দেবিদ্বার সরকারি কলেজের উত্তর গেটের সামনে ঘটে যাওয়া এই কলঙ্কজনক ঘটনাটি আজ বাংলার আকাশ-বাতাসকে কাঁদিয়ে তুলেছে। এই ঘটনা শুধু এক বাবার চোখের জল নয়, এটি পুরো মানবতা আর সভ্যতার বুকে এক চরম কুঠারাঘাত!
বৃদ্ধ বাবা সেদিন দুই হাত জোড় করে, পায়ে ধরে কতটা অনুনয়-বিনয় করেছিলেন—”আমারে তাড়াইয়া দিও না মা, এই অসুস্থ শরীরে আমি কোথায় যাবরে মা!” কিন্তু ওই পাষাণ, নররূপী পিশাচ মেয়ে আর ৫০ বছরের সঙ্গী স্ত্রীর মন গলেনি। শেষ পর্যন্ত গায়ের পাঞ্জাবি খানা চোখের পানিতে ভিজিয়ে, এক কাপড়ে চোখ মুছতে মুছতে এক অন্ধকার অজানার উদ্দেশ্যে রাজপথের ধুলোয় পা বাড়ালেন এক অভাগা পিতা। যে মেয়ে নিজে স্কুলে গিয়ে অন্য হাজারো শিশুকে নৈতিকতা শেখায়, সেই উচ্চশিক্ষিত পশুর কাছে নিজের বাবার জীবনের কোনো মূল্যই নেই! দুনিয়ার স্নেহ-মায়া-মমতা আজ সত্যিই মিছা হয়ে গেছে।
বাংলার বুকে আর কোনোদিন, কোনো অবস্থাতেই যেন কোনো সন্তান নিজের মা-বাবার গায়ে হাত তোলার বা তাঁদের রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলার দুঃসাহস না দেখায়—তার জন্য আজ আমাদের সবাইকে এক হতে হবে। এই কুলাঙ্গার শিক্ষিকা এবং তাঁর মায়ের সামাজিক বয়কট ও কঠিনতম আইনি শাস্তি আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি!