নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর ভাটারায় উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় ও ভাটারা প্রেসক্লাবের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ১টায় বারিধারা জে ব্লক, কোকাকোলা রোড, আরহান মসজিদের পাশে ভাটারায় এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন মো. নুর ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা বিভাগীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. এম এ কাইয়ুম। প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার স্থায়ী পরিষদের সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম লাকি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা বিভাগীয় সভাপতি ও ভাটারা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. সোহাগ ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভাটারা প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মো. আতাউর রহমান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা এজিএম শামসুল হক, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পলাশ, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তরের নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম।
অপরাধমুক্ত ভাটারা গড়ার প্রত্যয়
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এম এ কাইয়ুম ভাটারা থানা এলাকায় জুয়া, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ভাটারা এলাকায় কোনো ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জুয়া, মাদক কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, এমনকি নিজের পরিবারের সদস্য হলেও অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
বিশেষ অতিথি মো. আতাউর রহমানও ভাটারা এলাকাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জুয়া ও মাদকমুক্ত করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অপরাধ দমনে পুলিশ-প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সাংবাদিক ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিক-পুলিশ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান
অনুষ্ঠানে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও পুলিশ একসঙ্গে কাজ করলে ভাটারা থানা এলাকায় একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন। ছিনতাই, জুয়া, মাদক, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসীরা যাতে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটনের সাহস না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ওসি আরও জানান, অপরাধ দমনে ইতোমধ্যে পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রমের ইতিবাচক ফলাফল দৃশ্যমান হয়েছে। ভবিষ্যতেও অপরাধ দমনে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সাংবাদিক সমাজ ও পুলিশের সমন্বয়ের প্রত্যয়
সভাপতির বক্তব্যে মো. সোহাগ ইসলাম বলেন, ভাটারা থানা পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ভাটারা এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জুয়া, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে সাংবাদিক সমাজ ও পুলিশ একযোগে কাজ করবে।
তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে। অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ ভাটারা গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকেও সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত ভাটারা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন কার্যালয় ও প্রেসক্লাবটি এলাকার সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজের নানা অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।