নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বনানীতে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন এবং ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগে হাসনাত নূর চৌধুরী (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বনানী থানা পুলিশ।
গত ৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বনানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়ক সংলগ্ন ‘গল্ফ হাইটস’ এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হাসনাত নূর চৌধুরী চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার রহিমপুর এলাকার মো. নুরুল কাদের চৌধুরীর ছেলে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি এর আগে মালয়েশিয়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কারাভোগ করেছেন বলেও জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকার রাওয়া ক্লাবে পারিবারিক আয়োজনের মাধ্যমে সুইডেনপ্রবাসী সাদিকা রহমানের (৩৭) সঙ্গে হাসনাতের বিয়ে হয়। বর্তমানে সাদিকা রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই হাসনাত নূর চৌধুরী যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় সাদিকা রহমান এর আগে পরিবারের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা এনে দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অনলাইন জুয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়ার পর হাসনাত নিয়মিতভাবে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করতেন। জুয়ার অর্থের জন্য তিনি স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করতেন এবং বাসাভাড়া, স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত বছরের ৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক ২টার দিকে যৌতুকের টাকার জন্য সাদিকা রহমানকে মারধরের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ওই জিডির নম্বর ২২৬।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে হাসনাত নতুন করে ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি স্ত্রীকে তালাক দেওয়া এবং অন্যত্র বিয়ে করার হুমকি দেন।
গত ২৮ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বনানীর বাসায় আবারও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সাদিকা রহমান টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে সন্তানসহ বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
পরে বনানী থানায় গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরপর সাদিকা রহমান ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত নং-৫-এ ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় একটি সিআর মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে বনানী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাসনাত নূর চৌধুরীকে গ্রেফতার করে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য ও প্রমাণ রয়েছে। একজন উচ্চশিক্ষিত নারী এবং তার নাবালক সন্তানের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে তারা আশা করছেন।